যে শহরে মানুষের কষ্ট এত ছোট যে কাউকে বলতেও লজ্জা লাগে
25-August 21, 2026-1 min read

রাত বারোটা। আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে সিগারেট খাচ্ছি। আকাশে চাঁদ নেই, তারাও নেই — শুধু ধোঁয়াটে একটা লালচে ভাব। শহরের আকাশ কখনো সত্যিকার অন্ধকার হয় না, এটা একটা সমস্যা। মানুষ ভাবে আলো ভালো জিনিস। কেউ ভাবে না, একটু গাঢ় অন্ধকার না থাকলে তারা দেখা যায় না।
হাতের সিগারেটটা প্রায় শেষ। শেষ টানটা সবচেয়ে আরামের, কারণ ওটাই শেষ।
পাশে একটা লোক এসে দাঁড়াল। বয়স্ক, গায়ে চাদর, ঠান্ডা না থাকলেও চাদর। আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
— ভাই, একটা সিগারেট হইব? কিনতে গেছিলাম, দোকানদার কয় দাম বাড়ছে।
— বেড়েছে?
— কালকে থিকা। বাজেটে বাড়াইয়া দিছে। আগে যেইটা আশি টাকায় দশটা পাইতাম, এখন বিরানব্বই।
আমি প্যাকেটটা বের করে একটা সিগারেট এগিয়ে দিলাম। লোকটা ধরাল, লম্বা একটা টান দিল। তারপর কী একটা ভেবে আমার দিকে তাকাল।
— আপনে খারাপ মনে কইরেন না, একটা কথা জিগাই। বারো টাকা বাড়ছে, এই দুঃখে রাইত বারোটায় আকাশের দিকে তাকাইয়া আছেন?
আমি বললাম, না। আমার বারো টাকায় কিছু যায় আসে না। যাদের যায় আসে, তারা এই কথা কাউকে বলবে না। লজ্জা পাবে। বারো টাকা এমন একটা পরিমাণ — কাঁদলে মানুষ হাসবে, না কাঁদলে নিজের ভেতরটা একটু একটু করে কাটবে।
লোকটা চুপ করে গেল। সিগারেটটা আবার টানল, এবার আস্তে।
— আপনে কী করেন?
— কিছু না। হাঁটি।
— সারা রাত?
— মানুষ ঘুমিয়ে গেলে শহরটা সত্যি কথা বলা শুরু করে। দিনের বেলা সবাই অভিনয় করে। রাতের বেলা শুধু যাদের ঘুম নেই, তারা জেগে থাকে — আর যাদের ঘুম নেই, তারা মিথ্যা বলে না।
লোকটা আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। সিগারেটটা শেষ করে, ফিল্টারটা পায়ের তলায় পিষে, একটা ছোট ঘাড় নেড়ে চলে গেল।
আমি আবার আকাশের দিকে তাকালাম। বারো টাকা। কারো কাছে কিছু না, কারো কাছে আস্ত একটা রাত।
Comments (1)
Log in to leave a comment.
আসেন ভাই, এক সাথে বিড়ি খাই।